মাফিয়া কর্লেওন পরিবারের কর্ণধার ছিলো “ডন ভিতো কর্লেওন”

- আপডেট সময় : ০১:১১:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৩ ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

বর্তমান সংবাদ ডেস্কঃ
বিখ্যাত সাহিত্যিক ও চিত্রনাট্য লেখক “মারিও পুজোর” বিখ্যাত বই “দ্যা গডফাদার” এর উপর ভিত্তি করে ১৯৭২ সালে নির্মিত হয় “দ্যা গডফাদার” মুভির প্রথম পার্ট। মুভিটা দর্শক মহলে প্রশংসিত হওয়ার পাশাপাশি ৯টি বিভাগে জিতে নেয় ১১টি অস্কার।
এরপর ক্রমান্বয়ে ১৯৭৪ এবং ১৯৯০ সালে মুভিটার পরবর্তী দুটি পার্ট রিলিজ হয়। ডিরেক্টর “ফ্রান্সিস ফোর্ড” এর পরিচালনা, মুভিটার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক,সংলাপ, সিনেমাটোগ্রাফি,সবার অভিনয় এতটাই ভালো ছিলো যে “দ্যা গডফাদার” মুভিটা মুভি লাভারদের কাছে এক মহাকাব্য হয়ে থাকবে!
১৯৪০ সালের নিউ ইয়র্ক শহরের বেশ প্রভাবশালী কর্লেওন পরিবার এবং অন্যান্য প্রভাবশালী পরিবারগুলোর অপরাধ জগতের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এই মুভিতে।
তৎকালীন সময়ে চলচ্চিত্র জগত থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে কর্লেওন পরিবারের প্রভাব ছিলো অন্যান্য প্রভাবশালী পরিবার থেকে বেশি, মাফিয়া কর্লেওন পরিবারের কর্ণধার ছিলো “ডন ভিতো কর্লেওন”।
“ডন ভিতো কর্লেওন” ছিলো তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি, সে বিচক্ষণতার সাথে তার এই মাফিয়া সাম্রাজ্যকে আগলে রাখেন। পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায়ের রাজনীতিবিদদের সাথে তার সম্পর্ক ভালো ছিলো।
সবকিছু ঠিকই চলছিলো, হঠাৎ এক ড্রাগ ডিলার “ডন ভিতো কর্লেওন” এর কাছে তার ব্যবসার প্রোটেকশনের প্রস্তাব নিয়ে আসে। কিন্তু “ডন ভিতো কর্লেওন” তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দেয়। আর এতে ড্রাগ ডিলারটা ক্ষিপ্ত হয়ে কর্লেওন পরিবারের প্রতিদ্বন্দ্বী যেই পরিবারগুলো ছিলো তাদের সাথে যোগ দেয় এবং “ডন ভিতো কর্লেওন” এর উপর হামলা করে।
“ডন ভিতো কর্লেওন” এর উপর হামলা হওয়ার পর কর্লেওন পরিবার অনেকটা নাজেহাল অবস্থায় পড়ে যায়, আর ঠিক সে সময়েই নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে পরিবারের শান্তশিষ্ট ছোট ছেলে “মাইকেল” কর্লেওন সাম্রাজ্যের দায়িত্য নেয়। এরই মধ্যে তার বড় ভাই “সনি কর্লেওন” প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাং এর হাতে মারা যায়।
পারিবারিক ব্যবসা থেকে দূরে থাকা মাইকেল হয়ে উঠেন “ডন মাইকেল কর্লেওন”, তারপর নিজের মত করে সে নিজের উল্লেখযোগ্য শত্রুদের মেরে ফেলে।
এই ছিলো “দ্যা গডফাদার” মুভির প্রথম পার্টের গল্প, দ্বিতীয় পার্টে “ডন ভিতো কর্লেওন” ছোটবেলায় তার পরিবারকে হারিয়ে ইতালি থেকে পালিয়ে আমেরিকা এসে কর্লেওন সাম্রাজ্য গড়ে তোলার পাশাপাশি “ডন মাইকেল কর্লেওন” কিভাবে তার বাবার গড়ে তোলা সাম্রাজ্য কে টিকিয়ে রেখে পারিবারিক ব্যবসা বিস্তার করে সেটাই দেখবেন। তৃতীয় পার্ট নিয়ে আর কিছু না বলি, মুভি দেখেই না হয় জেনে নিবেন।**
মুভিটার তিনটা পার্টেই অনেকগুলো হৃদয়বিদারক দৃশ্য রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে “ডন ভিতো কর্লেওনের মৃত্যু, ডন মাইকেল কর্লেওনের স্ত্রীর মৃত্যু, ডন মাইকেল কর্লেওনের নির্দেশে তার বিশ্বাসঘাতক ভাইকে হ*ত্যা করার আদেশ দেওয়া, ডন মাইকেল কর্লেওনের মেয়ের অকাল মৃত্যু”।
ডন ভিতো কর্লেওন” চরিত্রে অভিনয় করা প্রয়াত “মার্লন ব্র্যান্ডো””ডন মাইকেল কর্লেওন” চরিত্রে অভিনয় করা “আল পাচিনো” এর অভিনয় ছিলো দুর্দান্ত, “দ্যা গডফাদার” চরিত্রটির মাধ্যমে তারা মুভি লাভারদের মন জয় করে নিয়েছেন!