ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গৃহস্থের বাড়িতে আগুন, গবাদি পশু পুড়ে ছাই  Logo নতুন ভোটার নিবন্ধন করতে আসা মানুষদের মাঝে জামায়াতের খাবার পানি ও ওষুধ বিতরণ Logo এমপি হই বা না হই আমি মানুষের জন্য কাজ করে যাবো-বোয়াল খালিতে-মোস্তাক আহমেদ Logo বিরামপুরে শাইখ স্পোর্টস বিপিএল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে সিজন -৮ এর শুভউদ্বোধন Logo ফাজিলপুর ডব্লিউ বি কাদরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৯০’র দশকের প্রাক্তন ছাত্রদের ঈদ পূর্ণমিলনী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ Logo শেরপুর জমি নিয়ে ভাই বোনের মারামারিতে বড় ভাইরে ৬০ বছরের বৃদ্ধর মৃত্যু Logo চট্টগ্রাম লোহাগাড়াতে মাহক্রোবাসের সংঘর্ষে ১০ জন নিহত  Logo খালেদা জিয়ার পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু Logo তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে: লক্ষীপুরে এ্যানি চৌধুরী Logo আগামী ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন: লক্ষীপুরে তথ্য উপদেষ্টা

জীবন যুদ্ধে জয়ী আত্মবিশ্বাসী ওবায়দুরের কথা

হাজী কাউছার, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ নভেম্বর ২০২৩ ২৯০ বার পড়া হয়েছে

হাজী কাউছার
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরের চুউরিয়া গ্রামের লোকাল ইলেকট্রিকশিয়ান বা মেকানিক হিসেবে পরিচিত জীবন সংগ্রামে হার না মানা মোঃ ওবায়দুর রহমান (৩৫)।

১৩ বছর ধরে নবীনগর পৌরসভার মাঝিকাড়াস্থ কনিকাড়া নৌকা ঘাটে (দোকানে) বৈদ্যুতিক মালামল মেরামত করে আসছেন তিনি।

বিশেষ করে ফ্যান, মটর, জেনারেটর মেরামত ও কয়েল বাঁধাইয়ের কাজ করে থাকেন। বর্তমানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন নবীনগর পৌরসভাস্থ আলীয়াবাদ দক্ষিণ পাড়ায়। ৩ পুত্র ও ১ কন্যা সন্তানের জনক তিনি।

১০ বছর আগে বৈদ্যুতিক কাজ করতে গিয়ে ইলেকট্রিক শকে ডান হাত হারান তিনি। দীর্ঘ দিনের অমানুষিক কষ্টের পর যখন সেরে উঠে ক্ষত তখন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারি হিসেবে পরিবারের হাল ধরতে শুরু করেন ইলেকট্রিক কাজ দিয়ে।

অন্য কোন কাজ জানা না থাকায় ও পুজির অভাবে এক হাত দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। প্রথম দিকে এক হাত দিয়ে কাজ করতে কষ্ট হলেও অভিজ্ঞতা আর একনিষ্ঠ শ্রমে এখন তিনি আগের মতই নিখুঁত ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

হতাশাগ্রস্ত, বেকার মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন তিনি। তাকে দেখলে যেন মানুষের হতাশা কেটে যায়। কিছু একটা কর্মসংস্থান করে যেন বাঁচার তাগিদ খুঁজে পায় অন্যরা।

ওবায়দুর রহমান জানান, শক খাওয়ার পর হাতটা কাইট্টা লাইতে অইচে। অনেক দিন বেকার আছিলাম। কাম কাইজ করতাম পারছি না। অহন আল্লার রহমতে ভালা আছি।

পাশবর্তী হোটেল ব্যবসায়ী ফয়সাল মিয়া বলেন, মাশাল্লাহ অনেক সুন্দর কাজ করেন ইলা (ওবায়দুর রহমান)।

রুবেল মিয়া নামে একজন বলেন, আমি তো প্রথমে উনাকে দেখে বিশ্বাসই করতে পারতেছিলাম যে উনি এক হাত দিয়ে ফ্যানের কয়েল বাঁধাই করতে পারবেন! পরে দাঁড়িয়ে থেকে উনার কাজ করতে দেখে আমি অবাক হয়ে যাই।

আত্মবিশ্বাসী ওবায়দুর রহমানের এক হাত দিয়ে কাজ করার দৃশ্য স্বাভাবিক মনে হলেও একদিকে অনেকের বিশ্বাস হারানো ও ধীর গতির কাজ হওয়ায় ও অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতিতে কুলিয়ে উঠতে কষ্ট হচ্ছে তার।

সরকারি কিংবা বেসরকারি অনুদান অথবা ভাতার ব্যবস্থা করা হলে কিছুটা সহজ হতো তার পারিবারিক জীবন।

এই অদম্য পরিশ্রমী ও একনিষ্ঠ অনুকরণীয় ব্যক্তি যিনি প্রতিক হয়ে উঠেছেন জীবন সংগ্রামের তার পাশে সজ্জন মানুষেরা এগিয়ে আসবেন বলে আমি আশাবাদী।

Translate »

জীবন যুদ্ধে জয়ী আত্মবিশ্বাসী ওবায়দুরের কথা

আপডেট সময় : ০৮:৩৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ নভেম্বর ২০২৩

হাজী কাউছার
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরের চুউরিয়া গ্রামের লোকাল ইলেকট্রিকশিয়ান বা মেকানিক হিসেবে পরিচিত জীবন সংগ্রামে হার না মানা মোঃ ওবায়দুর রহমান (৩৫)।

১৩ বছর ধরে নবীনগর পৌরসভার মাঝিকাড়াস্থ কনিকাড়া নৌকা ঘাটে (দোকানে) বৈদ্যুতিক মালামল মেরামত করে আসছেন তিনি।

বিশেষ করে ফ্যান, মটর, জেনারেটর মেরামত ও কয়েল বাঁধাইয়ের কাজ করে থাকেন। বর্তমানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন নবীনগর পৌরসভাস্থ আলীয়াবাদ দক্ষিণ পাড়ায়। ৩ পুত্র ও ১ কন্যা সন্তানের জনক তিনি।

১০ বছর আগে বৈদ্যুতিক কাজ করতে গিয়ে ইলেকট্রিক শকে ডান হাত হারান তিনি। দীর্ঘ দিনের অমানুষিক কষ্টের পর যখন সেরে উঠে ক্ষত তখন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারি হিসেবে পরিবারের হাল ধরতে শুরু করেন ইলেকট্রিক কাজ দিয়ে।

অন্য কোন কাজ জানা না থাকায় ও পুজির অভাবে এক হাত দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। প্রথম দিকে এক হাত দিয়ে কাজ করতে কষ্ট হলেও অভিজ্ঞতা আর একনিষ্ঠ শ্রমে এখন তিনি আগের মতই নিখুঁত ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

হতাশাগ্রস্ত, বেকার মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন তিনি। তাকে দেখলে যেন মানুষের হতাশা কেটে যায়। কিছু একটা কর্মসংস্থান করে যেন বাঁচার তাগিদ খুঁজে পায় অন্যরা।

ওবায়দুর রহমান জানান, শক খাওয়ার পর হাতটা কাইট্টা লাইতে অইচে। অনেক দিন বেকার আছিলাম। কাম কাইজ করতাম পারছি না। অহন আল্লার রহমতে ভালা আছি।

পাশবর্তী হোটেল ব্যবসায়ী ফয়সাল মিয়া বলেন, মাশাল্লাহ অনেক সুন্দর কাজ করেন ইলা (ওবায়দুর রহমান)।

রুবেল মিয়া নামে একজন বলেন, আমি তো প্রথমে উনাকে দেখে বিশ্বাসই করতে পারতেছিলাম যে উনি এক হাত দিয়ে ফ্যানের কয়েল বাঁধাই করতে পারবেন! পরে দাঁড়িয়ে থেকে উনার কাজ করতে দেখে আমি অবাক হয়ে যাই।

আত্মবিশ্বাসী ওবায়দুর রহমানের এক হাত দিয়ে কাজ করার দৃশ্য স্বাভাবিক মনে হলেও একদিকে অনেকের বিশ্বাস হারানো ও ধীর গতির কাজ হওয়ায় ও অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতিতে কুলিয়ে উঠতে কষ্ট হচ্ছে তার।

সরকারি কিংবা বেসরকারি অনুদান অথবা ভাতার ব্যবস্থা করা হলে কিছুটা সহজ হতো তার পারিবারিক জীবন।

এই অদম্য পরিশ্রমী ও একনিষ্ঠ অনুকরণীয় ব্যক্তি যিনি প্রতিক হয়ে উঠেছেন জীবন সংগ্রামের তার পাশে সজ্জন মানুষেরা এগিয়ে আসবেন বলে আমি আশাবাদী।